বড় ছেলে ২

বড় ছেলে - 2
https://mobile.facebook.com/alamgir.rahman.9
847
https://papry99.blogspot.com/

অব শেষে মুক্তি পেল।
সবাই পড়বেন, আশা করি সবার ভাল লাগবে।
রিয়ার Gifts গুলো আর আকাশ পরিমাণ বেদনা নিয়ে
রাশেদ আসার পর প্রায় ৫ বছর কেটে গেল।
রাশেদ এখন বড় একটা চাকরি করে। আজ সে
প্রতিষ্ঠিত। রাশেদ গাড়িতে করে বাসায় ফিরছে।
গাড়িতে বসে রিয়ার দেয়া সেই ডায়রীটা বের
করলো। যে ডায়রীতে রাশেদ লিখেছে তার
মনে জমানো অনেক না বলা কথা। ডায়রীতে
লিখেছে -
প্রিয় রিয়া, আমি তোমার সেই রাশেদ। অনেক বছর
তোমার সাথে কথা হয়নি। ৫বছর কেটে গেছে।
জানতে খুব ইচ্ছে করে কেমন আছো তুমি?
জানো আজও আমি তোমাকে অনেক মিস করি।
তোমার দেয়া হাত ঘড়িটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে।
ওটা হাতে দিয়েই প্রতিদিন আমি অফিসে যাই। এখন
আমার মোবাইলে সব সময় চার্জ থাকে। কারন
তোমার দেয়া পাওয়ার ব্যাংকটা সব সময় আমার সাথে
থাকে। বাবা, মা, ভাই, বোন আর অনেকে আমাকে
কল ফোন করে শুধু তুমি ছাড়া। আর যখন আমি খুব
ঘেমে যাই তখন তোমার দেয়া আইছি টিস্যু দিয়ে
মুছি ফেলি। সারাদিন অফিসের কাজ শেষ করে বাসায়
এসে তোমার সাথে কথা বলি। তোমার ডায়রীর
সাথে। তুমি বলেছিলে হুট করে একদিন এসে
ডায়রী চেয়ে বসবে। তাই ডায়রীটা সব সময়
আমার সাথে রাখি। আর তোমার দেয়া চকলেট
গুলো জেসির খুব পছন্দ হয়েছে। ওহ
তোমাকে তো বলাই হয়নি, আমার অনেক বড় একটা
চাকরি হয়েছে। আজ আমার সব আছে শুধু তুমি ছাড়া।
বাবা এখন টেনশন মুক্ত থাকে। বোনের
দোকানেও অনেক ভাল বেচাকেনা হয়। ছোট
ভাইটাও ভাল একটা কলেজে পড়ে। একটা কথা কি
জানো রিয়া? তোমার আর আমার ব্যাপারটা আমার বাড়ির
কেউ জানেনা। শুধু একজন জানে। সে হল জেসি।
তোমার দেয়া চকলেট গুলো যখন ওকে
দিয়েছিলাম তখন আমাকে খুশি হয়ে বলেছিল,
আংকেল কে দিয়েছে চকলেট? আমি এই অবুঝ
শিশুর সাথে মিথ্যা বলতে পারিনি। আমি বলেছিলাম
তোমার মামি দিয়েছে। সে কি বলেছিল জানো?
বলেছিল মামি অনেক ভাল। আমি সেদিন অনেক
কষ্টে কান্না লুকিয়ে রেখেছিলাম। আজ জেসি
অনেক বড় হয়েছে। ক্লাস থ্রি তে পড়ে।
অনেক মেধাবী। জানো রিয়া আমি এখনো প্রতি
ছুটির দিনে ঐ বেঞ্চে বসে থাকি। যেখানে
তোমাকে আমি বাদাম ছিলে দিতাম। এখনো তোমার
জন্য বাদাম নিয়ে বসে থাকি। ভাবি এই বুঝি তুমি এলে।
কিন্তু তুমি আসোনা। পরে গোধূলির সন্ধ্যাতে
ভারাক্লান্ত মনে ফিরে আসি। সব কিছুই আগের মতই
আছে, শুধু তুমি ছাড়া। ডায়রীটা পড়ে রাশেদ
চোখের জল মুছলো।রাশেদের গাড়ি দ্রুত
এগিয়ে চলছে। হঠাৎ রাশেদ রিয়াকে দেখতে
পেল। রিয়া রাস্তা দিয়ে হেটে চলছে। রাশেদ গাড়ি
থামালো। তারপর রিয়ার সামনে গেল। দুজন একে
অপরকে দেখে দুজনের চোখই অস্রুসিক্ত
হয়ে গেল। রাশেদ বললো কেমন আছো রিয়া?
বলবো আগে আমার বাদাম দাও। রাশেদ একটু
হেসে পাশের দোকান থেকে বাদাম কিনে দিল।
এবার বল কেমন আছ?
রিয়া :কেটে যাচ্ছে। তুমি কেমনে আছ?
রাশেদ :আছি আরকি। তো তোমার বরকে
দেখছিনা যে?
রিয়া :আমি বিয়ে করেনি।
রাশেদ :কেন?
রিয়া : কারন ছেলেটা চোরাকারবারী আর অনেক
খারাপ কাজে যুক্ত ছিল। বিয়ের আসরেই পুলিশ
তাকে ধরে নিয়ে যায়। এটা দেখে বাবা হার্টএ্যাটাক
করে সেদিনই মারা যায়।
রাশেদ :সরি! তারপর কি হলো?
রিয়া :বাবা ব্যাংকে অনেক টাকা ঋন ছিল। বাবার সব
সম্পত্তি বিক্রি করে ঋন পরিশোধ করি। https://mobile.facebook.com/alamgir.rahman.9
847
https://papry99.blogspot.com/
তারপর গ্রামে মামার বাড়িতে ওঠি। ওখানকার এক
প্রাইমারি স্কুলে চাকরি নেই। স্কুলের কাজেই আজ
শহরে আসা হয়েছে।
রাশেদ : এত বড় ঝড় তোমার জীবনে বয়ে
গেল আর তুমি আমাকে জানালেনা?
রিয়া : জানাতে চেয়েছিলাম কিন্তু দেখলাম তুমিই
অনেক কষ্টে আছ,তাই জানাইনি।
রাশেদ : পরে কি আর বিয়ে করনি?
রিয়া : না
রাশেদ : কেন?
রিয়া : কারন তুমি চলে গেলে তারপর বিয়েটাও
ভেঙে গেলো। ভাবলাম আমার কপালে বিয়ে
নেই, তাই বিয়ে করিনি। দেখো আমি একা একা বক
বক করছি। তোমার বউ কেমন আছে? তোমাকে
খুব ভালবাসে তাইনা?
রাশেদ : জানিনা।
রিয়া : মানে?
রাশেদ : মানে বিয়ে করলে তো জানবো
কেমন আছে আর কেমন ভালবাসে? আর তাছাড়া
আমি বিয়ে করলে তোমাকে ভালবাসবে কে?
রিয়ার চোখ অস্রুসিক্ত হয়ে গেল।
রাশেদ :এই কাঁদছো কেন পাগলি?
রিয়া :তুমি আমাকে এত ভালবাসো?
রাশেদ : অনেক ভালবাসি। রাশেদ রিয়ার হাত ধরে
বললো বিয়ে করবে আমাকে? রিয়া রাশেদের
দিকে অবাক চোখে তাকালো। হ্যা রিয়া সেদিন তুমি
আমার হাত ধরে কেঁদেছিলে, আমাকে নিয়ে
পালাতে চেয়েছিলে। কিন্তু সেদিন আমি পারিনি।
কারন সেদিন আমার কিছু ছিলনা। কিন্তু আজ আমার গাড়ি
বাড়ি টাকা পয়সা সব আছে। শুধু তুমি নেই। তাই আজ
আমার তোমাকে নিয়ে স্বপ্নের রাজ্যে পালাতে
ভয় নেই। তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিওনা রিয়া। রিয়া কথা টি
শুনে কাঁদতে লাগলো।
রাশেদ : কাঁদছো কেন? কষ্ট পেলে আমার
কথায়?
রিয়া : ধ্যাত, এই কান্না সুখের কান্না, এই কান্না
তোমাকে আপন করে পাবার কান্না। রিয়া কান্না থামিয়ে
দেখলো তার দেয়া ঘড় আর পাওয়ার ব্যাংক
রাশেদের সাথেই আছে। তারপর বললো সব
আছে কিন্তু আমার দেয়া ডায়রীটা কই? তুমিকি আমার
সাথে নিয়মিত কথা বলতা? রাশেদ গাড়ি থেকে
ডায়রীটা এনে দিল। ডায়রীর সব লেখা পড়ে আবার
কাঁদতে লাগলো। কাঁদতে কাঁদতে রাশেদের
বুকে মাথা রাখলো আর বললো তুমি আমাকে এত
ভালো বাসো! রাশেদের বুক রিয়ার চোখের
জলে ভিজে গেল। রাশেদ রিয়ার দেয়া টিস্যু দিয়ে
চোখের জল মুছে দিল। বললো এখন আর কান্না
নয়। এখন থেকে আর কষ্ট পেতে হবেনা।
গাড়িতে ওঠো, এখনই তোমাকে আমার বাড়ি নিয়ে
যাবো। আর ভালবাসার বন্ধন বিয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ
করবো।
লেখাটি লিখতে অনেক সময় লেগেছে।
যদি আপনাদের ভাল লাগে, তবে আমার কষ্ট করে
লেখাটা সার্থক হব!!
https://mobile.facebook.com/alamgir.rahman.9
847
https://papry99.blogspot.com/



শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট