♦গানপাগলী মেয়ে...♦
শাইখ হাম্মাদ একটা ঘটনার কথা বলেছেন। ঘটনাটি তার মহল্লার।তিনি বললেনঃ
.
-একদিন মসজিদে বসে আছি।ফজরের পরে একটা ছোট ছেলে এলো।আমাকে বললোঃ
.
-আমাদের বাসায় একটু যেতে পারবেন?আব্বু বলেছেন যদি আপনার কষ্ট না হয় তাহলে বাসায় আসতে।
.
-ঠিক আছে চলো।
বাসায় গেলাম।মসজিদের অদূরেই বাসাটা।দরজাতে ছেলের পিতা আমাকে স্বাগত জানালেন।ভিতরে গিয়ে বসলাম।বাবা বললেনঃ
.
-শাইখ!আমার মেয়েটা খুবই অসুস্ত।গতরাত থেকে কেমন যেন করছে।কয়েকবার বেহুঁশ হয়ে পড়েছে।মেয়ের মা বারবার তার কানের কাছে কালিমা পড়ছে কিন্তু মেয়ে কি যেন বলছে বুঝা যাচ্ছে না।
.
আমি সেখানে গেলাম।দেখলাম আপাদমস্তক আবৃত একটা মানুষ শুয়ে আছে।কাছে গিয়ে কালিমার তালকীন দিলামঃ
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।
.
বেশ কয়েকবার বলার পরও মেয়েটার কাছ থেকে কোনও সাড়া পেলাম না।এভাবে কিছুক্ষণ যাওয়ার পর আমার মনে হলো,চাদরের ভেতর থেকে অস্পষ্ট একটা আওয়াজ আসছে।মেয়ের বাবাকে বললামঃ
.
-আপনি কান পেতে শুনার চেষ্টা করুন তো।বোঝা যায় কি না দেখুন।
বাবা মুখের কাছে কান নিয়ে গেলেন।অনেকবার চেষ্টায় তিনি উদ্ধার করতে পারলেন,মেয়ে বলছেঃ
.
-আমি কিছু বলতে পারছিনা।আহ!আমার বুকটা ফেটে যেতে চাইছে।বুকের ওপর ভীষণ চাপ অনুভব করছি।আহ!আমি দেখতে পাচ্ছি অদূরেই একটা প্রকাণ্ড অগ্নিকাণ্ড দাউদাউ করে জ্বলছে।
এসব বলতে বলতে মেয়েটার শেষ নিঃশ্বাস বেরিয়ে গেলো।আমি মেয়ের বাবাকে জিজ্ঞেস করলামঃ
.
-মেয়েটার জীবন কিভাবে কাটতো?সে কী করতো?
.
-শাইখ!আমার মেয়েটা খুবই ভালো মেয়ে।পড়ালেখা,আচার-আচরণ সবদিক থেকে সে সেরা একটা মেয়ে।কিন্তু তার একটা সমস্যা আমরা বাবা-মা দুজনেই হাজার চেষ্টা করেও ছাড়াতে পারিনি।
.
-কী সেটা?
.
-সে দিনের বেশির ভাগ সময়ই কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতো।ওর নাকি গান না শুনলে ভালো লাগতো না।এমনকি ও পড়ার সময়ও কানে গানের হেডফোন লাগিয়ে রাখতো।এই গানের কারনে তার নামাজ-তিলাওয়াতেও অনেক সময় ঘাটতি হতো।এই একটা কাজই সে আমাদের বারণ ঠেলে করতো।
.
-আমার মনে হয়,এই পাপেই তার মুখে শেষ মুহূর্তে কালিমা নসিব হয়নি।
.
ইয়া আল্লাহ!
আমাদের সবাইকে হারাম গানের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিন।আমিন।
#শাইখ মুহাম্মদ আতীক উল্লাহ।