দিনাজপুর জেলা বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের একটি জেলা

             দিনাজপুর জেলা
বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের একটি জেলা

দিনাজপুর জেলা বাংলাদেশের উত্তর- পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।
এই অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে ইন্ডিয়ান
প্লেটের অংশ যা আদি জুরাসিক যুগে সৃষ্টি হওয়া গন্ডোয়ানাল্যান্ডের অংশ ছিল।
এজন্য এই এলাকাকে গন্ডোয়ানাল্যান্ড বলা হত।
                দিনাজপুর জেলা
বাংলাদেশে দিনাজপুর জেলার অবস্থান স্থানাঙ্ক: ২৫°৩৭′৪৮″ উত্তর ৮৮°৩৯′০″ পূর্ব / 
২৫.৬৩০০০° উত্তর ৮৮.৬৫০০০° পূর্ব
দেশ ----------------------- বাংলাদেশ
বিভাগ -------------------- রংপুর বিভাগ
আয়তন  • মোট ৩৪৪৪.৩০ কিমি ২
(১৩২৯.৮৫ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (2011) [১] • মোট ৩১,০৯,৬২৮ • ঘনত্ব ৯০০/কিমি ২ (২৩০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার • মোট ৫২.৫%

ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

           ভৌগোলিক সীমানা
দিনাজপুর জেলার উত্তরে ঠাকুরগাঁও , পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলা, দক্ষিণে জয়পুরহাট জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ , পূর্বে রংপুর ও
নীলফামারী জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যর পশ্চিম দিনাজপুর ( উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাদ্বয়) অবস্থিত।
এই জেলার মোট আয়তন ৩৪৩৭.৯৮ বর্গ কিলোমিটার।
বার্ষিক সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা ৩৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২৫৩৬ মিলিমিটার। প্রধান নদীসমূহ পূনর্ভবা, আত্রাই।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ দিনাজপুর জেলা উপজেলা গুলি হল


বিরামপুর উপজেলা
বীরগঞ্জ উপজেলা
বোচাগঞ্জ উপজেলা
ফুলবাড়ী উপজেলা
চিরিরবন্দর উপজেলা
ঘোড়াঘাট উপজেলা
হাকিমপুর উপজেলা
কাহারোল উপজেলা
খানসামা উপজেলা
দিনাজপুর সদর উপজেলা
নবাবগঞ্জ উপজেলা
পার্বতীপুর উপজেলা
বিরল উপজেলা

   দিনাজপুর নামকরনের ইতিহাস
জনশ্রুতি আছে জনৈক দিনাজ অথবা দিনারাজ দিনাজপুর
রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা।
তার নামানুসারেই রাজবাড়ীতে অবস্থিত মৌজার নাম হয় দিনাজপুর।
পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসকরা ঘোড়াঘাট সরকার বাতিল করে নতুন জেলা গঠন করে এবং রাজার
সম্মানে জেলার নামকরণ করে দিনাজপুর।
          জেলা গঠনের ইতিহাস
১৭৬৫ সালে দেওয়ানি গ্রহণের ফলে দিনাজপুর জেলা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিয়ন্ত্রণভুক্ত হয়।
সেই সময় লক্ষনৌতী, বাজিন্নাতাবাদ, তেজপুর, পানজারা, ঘোড়াঘাট, বারবকাবাদ ও বাজুহা, এই ছয়টি
সরকারের অংশ নিয়ে দিনাজপুর জেলা গঠিত হয়।
১৭৮৬ সালে দিনাজপুর জেলা হিসেবে ঘোষিত হয়।
দিনাজপুর সদরে জেলা সদর গঠিত হয়।
[৩] দিনাজপুর একসময়ে একটি নামকরা জনপদ পুন্দ্রবর্ধনের অংশ ছিল।
লাখনাউটির রাজধানি দেভকটের অবস্থান ছিল এর ১১ মাইল দক্ষিণে।
ততকালীন ইংরেজ শাসকদের “The British
Administrative Control” এখানে ১৭৮৬ সনে গঠিত হয়।
১৯৪৭ সালে বঙ্গভঙ্গের সময়ে
দিনাজপুরের একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গে চলে যায় এবং তার নাম হয় পশ্চিম দিনাজপুর জেলা ।
এ জেলার জনগনেরা তেভাগা আন্দোলনে অংশগ্রহন করে এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে

                শিল্প ও বাণিজ্য
দিনাজপুর একটি কৃষি সমৃদ্ধ জেলা। সেজন্য এ জেলাতে যেসব শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে তার অধিকাংশই কৃষি ভিত্তিক। দিনাজপুর জেলায় বড় শিল্প ও কারাখানার মধ্যে সেতাবগঞ্জ সুগার মিলস লিঃ এবং দিনাজপুর টেক্সটাইল মিলস লিঃ অন্যতম।

                       কৃষিই
এই জেলার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের চালিকা শক্তি।
কাটারী ভোগ, কালাজিরা চাল, চিড়া, আম ও লিচুর জন্য এই জেলা বিশেষভাবে পরিচিত।
এছাড়াও ধানচাষ নির্ভর এই জেলা দেশের সিংহভাগ চালের যোগান দেয়।
এজন্য দিনাজপুরকে দেশের শষ্য ভান্ডার বলা হয়।
ধান এই জেলার প্রধান কৃষি পণ্য হওয়ায় এই জেলায় শিল্প ও কলকারখানা বলতে প্রায় ২০০০ এর মত চাল কল আছে যার মধ্যে প্রায় ১০০ টির মত অটোমেটিক ও সেমি- অটোমেটিক চাল কল, বাকী সবগুলো চাতাল নির্ভর (হাস্কিং) চাল কল।
                      নদীসমূহ
দিনাজপুর জেলায় প্রায় ১২টি নদী রয়েছে।

                নদীগুলো হচ্ছে
আত্রাই নদী , কাঁকড়া নদী,
করতোয়া নদী, আপার করতোয়া নদী, ইছামতি নদী (দিনাজপুর) , খড়খড়িয়া নদী , চিরনাই নদী, ছোট যমুনা নদী , টাঙ্গন নদী ,
ঢেপা নদী, নলশিশা নদী, পুনর্ভবা নদী এবং যমুনেশ্বরী নদী ।
       
              চিত্তাকর্ষক স্থান
1. কয়লাখনি
2. কান্তজীর মন্দির
3. রামসাগর
4. স্বপ্নপূরী
5. হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
6. দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ
7. জিয়া হার্ট ফাউন্ডেসন
8. গাওসুল আজম বি এন এস বি চক্ষু হসপিটাল
9. দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড
10. পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন

বৃহত্তর দিনাজপুরের দর্শনীয় স্থান

          দিনাজপুর
১. দিনাজপুর রাজবাড়ি,
২. চেহেলগাজি মসজিদ ও মাজার, ৩. কান্তজিউর মন্দির,
৪. ঘোডাঘাট দুর্গ,
৫.সীতাকোট বিহার,
৬. সুরা মসজিদ,
৭. নয়াবাদ মসজিদ,
১০. রামসাগর,
১১. স্বপ্নপুরী,
১২. স্টেশন ক্লাব,
১৩. কালেক্টরেট ভবন,
১৪.সার্কিট হাউস ও জুলুমসাগর,
১৫. দিনাজপুর ভবন,
১৬. সিংড়া ফরেস্ট,
১৭. হিলি স্থলবন্দর,
১৮. বিরল স্থলবন্দর,
১৯. লিচুগ্রাম
২০. বেড়াবো সিবিটি ভিলেজ।
২১. রামসাগর জাতীয় উদ্যান,
২২, শতশহীদের গণকবর.
মোট পর্যটন স্থান ২২টি।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত ৫টি। প্রত্নতাত্বিক স্থান: ১১টি।
বিষেশ স্থান : প্রজন্ম ক্লাব (২০১৬)
গুরুত্বপূর্ণ স্থান: ২টি।
কৃত্রিম বিনোদন কেন্দ্র: ১টি।
বিখ্যাত: ধান, লিচু আম ও সব্জি। আকর্ষণ: কৃষকদের জীবন যাপন। স্মারক পন্য:



শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট