দিনাজপুর বড়মাঠে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে তাবলীগ

দিনাজপুর বড়মাঠে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে তাবলীগ
জামাতের ৩ দিনব্যাপী ইজতেমা : শেষ হবে শনিবার
বৃহস্পতিবার (৩০ নবেম্বর) বাদ জোহর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে তিন
দিনব্যাপী তাবলীগ জামাতের ইজতেমা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু
হবে। দিনাজপুর বড়মাঠে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের
পূর্বপাশের অংশে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের জন্য প্যান্ডেল
তৈরীর কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
শনিবার (২ ডিসেম্বর) জোহর নামাজের পূর্বে আখেরী
মুনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শেষ হবে। দিনাজপুর জেলার
১৩ উপজেলার তাবলীগ জামাতের সাথীদের নিয়ে এই
ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার বিকেল থেকে জেলার বিভিন্ন
উপজেলা হতে মুসল্লিদের ইজতেমা মাঠে আসতে দেখা
গেছে। শুক্রবার ইজতেমা প্যান্ডেলে জুমার নামাজ আদায়
করা হবে। এটি জেলার সর্ববৃহৎ জুমার নামাজের জামাত হবে
বলে জানিয়েছেন তাবলীগ জামাতের মুরব্বিরা।
এদিকে ইজতেমা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে
ইজমেতা মাঠে অবস্থানের জন্য আগত মুসল্লিদের জন্য চাটাইসহ
অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে ইজমেতা মাঠের উত্তর পাশে ঈদগাহ
মাঠের চার পাশে দোকানীরা তাদের দোকান সাজিয়ে
বসেছেন। এছাড়া মেছওয়াক, টুপি, তসবিহ, জায়নামাজসহ
অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়েও দোকানীরা এরই
মধ্যে তাদের দোকান সাজিয়ে বসেছেন।
দিনাজপুর তাবলীগ জামাতের আমীর (জিম্মাদার) আলহাজ্ব
মো. লতিফুর রহমান জানান, ঢাকার কাকরাইল থেকে তাবলীগ
জামাতের মুরব্বিদের মাওলানা মো. রবিউল হক, মাওলানা
মো. মোশাররফ হোসেন ও মাওলানা মো. আব্দুল মতিনসহ
অন্যান্য মুরব্বি এই ইজমেতায় মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বয়ান করবেন।
মানুষকে দ্বীনের পথে উদ্বুদ্ধ ও আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীর দিকে
রুজু করতে, মানুষের মাঝে হক তথা সঠিক পথ কবুল করার যোগ্যতা
তৈরী, আখেরাতের জিন্দেগী বা মৃত্যুর পরবর্তি জীবন কেমন
হবে এবং কিভাবে মানুষ আখেরাতমূখী করা যায় এ সব বিষয়ে
এই ইজতেমায় বয়ান (আলোচনা) করা হবে।
আলহাজ্ব মো. লতিফুর রহমান আরো জানান, এই ইজতেমায়
ইন্দোনেশিয়া হতে আগত একটি জামাত অংশগ্রহণ করবে। তিনি
জানান, যে বছর ঢাকার টঙ্গীতে দিনাজপুরের তাবলীগ
জামাতের সার্থীরা যেতে পারবেন না, মূলত তাদের নিয়েই
জেলা পর্যায়ে এই ইজতেমার আয়োজন করা হবে। আর সে
কারণে এ বছর দিনাজপুরে তিন দিনব্যাপী এই ইজতেমার
আয়োজন করা হয়েছে।
তিন দিনব্যাপী ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের জন্য দিনাজপুর
বড়মাঠে প্যান্ডেল তৈরীর কাজ শেস হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার
মুসল্লির জন্য এ প্যান্ডেল তৈরী করা হয়েছে। তবে
প্যান্ডেলের বাইরে আশপাশের এলাকায় ৩০ হাজারসহ প্রায়
৫০ হাজার মুসল্লি অবস্থান করতে পারবেন বলে জানান
মুরব্বিরা।
ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের এরই মধ্যে অজু-গোসলের পানি
সরবরাহের জন্য ৩০টি টিউবওয়েল, একটি সাবমারসেবল পাম্প,
৩টি মটর স্থাপন করা হবে। এছাড়া নিরাপদ স্যানিটেশনের জন্য
৪শ’ টয়লেট তৈরা করা হয়েছে। বিদেশী মেহনান ও তাবলীগ
জামাতের বৃদ্ধ সাথীদের জন্য মাঠের পশ্চিম পাশে খাস
কামরা (বিশেষ কক্ষ) তৈরী করা হয়েছে। এই খাস কামরায় আগত
বিদেশী মেহমান ও তাবলীগ জামাতের বৃদ্ধ সাথীরা
থাকবেন বলে জানান মুরব্বিরা।
উল্লেখ্য, ইজতেমায় প্যান্ডেল তৈরী, টয়লেট নির্মাণ, নিরাপদ
পানি সরবরাহের জন্য টিউবওয়েল স্থাপন, বিদ্যুৎ সংযোগসহ
অন্যান্য সব ধরনের খরচ তাবলীগ জামাতের সার্থীরা নিজ
উদ্যোগে করেছেন। কারো নিকট থেকে ধরনের সহযোগিতা
নেয়া হয়নি। একমাত্র আল্লাহকে রাজি-খুশি ও সওয়াবের
আশায় সবাই স্বেচ্ছায় এসব কাজ করেছেন তাবলীগ জামাতের
সাথীরা।+(গর্বিত কবিরাজহাট)

শেয়ার করুন

লেখকঃ

পূর্ববর্তী পোষ্ট
পরবর্তী পোষ্ট