শাহজাহান-মমতাজের
প্রেমকাহিনীর পেছনের ইতিহাস
Alamgir Rahman
সম্রাট শাহজাহান ও মমতাজের প্রেম
কাহিনী বিশ্বের সাড়া জাগানো প্রেম
কাহিনীগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাদের মতো
এরকম অমর প্রেম কাহিনী আরও অনেক
রয়েছে। তবে সম্রাট শাহজাহান ও মমতাজের
প্রেম কাহিনীটি একটি বিশেষ কারণে সাড়া
জাগিয়েছে। তা হলে মমতাজের জন্য সম্রাট
শাহজাহানের বানানো বিখ্যাত সেই
তাজমহল। আজ আমরা তাজমহলের খুঁটিনাটি
তথ্য এখানে তুলে ধরবো।
সম্রাট শাহজাহান ও মমতাজের. .......প্রেমের সংক্ষিপ্ত ঘটনা:
█ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █
https://papry99.blogspot.com
সময়টা ছিল ১৬১২ খ্রিষ্টাব্দ। সম্রাট
শাহজাহানের বয়স তখন ২০ বছর। একদিন
আগ্রার বাজার দিয়ে যাওয়ার পথে হঠাৎ
শাহজাহানের চোখ চলে যায় পরমা সুন্দরী
এক মেয়ের দিকে। আরজুমান্দ বেগম নামের
মেয়েটির বয়স ১৫। প্রথম দেখাতেই আরজুমান্দ
বেগমকে ভালো লেগে যায় শাহজাহানের।
পরবর্তীতে ১৬১২ খ্রিস্টাব্দের ১০ মে
মমতাজের বিয়ে হয় যুবরাজ খুররমের (সম্রাট
শাহজাহান) সঙ্গে। (কিন্তু উইকিপিডিয়ায়
বলা আছে বিয়ের সময় তাদের দুজনের বয়স
ছিল যথাক্রমে ১৫ ও ১৪)। তবে এর আগে
রাজনৈতিক কারণে পারস্যের রাজকন্যাকে
বিয়ে করেন সম্রাট শাহজাহান। পরবর্তীতে
সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রীর নাম পরিবর্তন
করে রাখেন মমতাজ মহল।মমতাজই ছিলেন
শাহজাহানের সব চেয়ে প্রিয় বেগম ।
উনিশবছরের বিবাহিত জীবনে মমতাজের
মোট চোদ্দটি সন্তান হয়। মমতাজ মহল ১৬৩১
সালে ৩৯ বছর বয়সে বুরহানপরে ১৪তম সন্তান
জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। স্ত্রী হারানোর
শোকে মুহ্যমান শাহজাহান তাঁর প্রাণপ্রিয়
স্ত্রীর স্মৃতির জন্য নির্মাণ করেন ভালবাসার
এই অপরূপ নিদর্শন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর সাতদিন
সাতরাত শাহজাহান কিছু খান নি। ঘর
থেকেও বার হন নি। সাতদিন পর শাহজাহান
বাইরে বেরোলেন। তখন তার চুলের রং ধুসর
হয়ে গেছে , মুখ ফ্যাকাসে।
মমতাজ আসলে শাহজাহানের. .............কতোতম স্ত্রী:
█ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █
https://papry99.blogspot.com
সম্রাট শাহজাহান ও মমতাজের প্রেম
কাহিনী যতটা আলোচিত ততটাই আলোচিত
যে, মমতাজ আসলে সম্রাট শাহজাহানের
কততম স্ত্রী। উইকিপিডিয়ার মতে, মমতাজ
ছিলেন সম্রাট শাহজাহানের ২য় স্ত্রী।
কোথাও বলা হয়েছে মমতাজ শাহজাহানের
৩য় স্ত্রী, কোথাও বলা আছে ৪র্থ স্ত্রী।
আসলে কততম স্ত্রী তা কোথাও সঠিকভাবে
বলা নেই।
সম্রাট শাহজাহান ও মমতাজের প্রেম
..........কাহিনী নিয়ে বিতর্ক:
█ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █
https://papry99.blogspot.com
পিএন অক নামের এক প্রফেসর তার “তাজমহল:
দ্য ট্রু স্টরিতে” শাহজাহান ও মমতাজের
প্রেমকাহিনীর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন
তোলেন। তার লেখায় তিনি উল্লেখ করেন,
মমতাজ ও শাহজাহনের ভালোবাসার গল্প
মূলত রূপকথা যা লোকমুখে সৃষ্ট। কারণ এত
গভীর ও চমৎকার প্রেমের কথা ভারতের ওই
সময়কার কোন সরকারি নথিপত্রে বা গ্রন্থে
উল্লেখ নেই। তিনি আরও কিছু ডকুমেন্টরি
উপস্থাপন করেন যা প্রমাণ করে তাজমহল
কখনোই সম্রাট শাহজাহানের আমলের নয়।
সেগুলো হল, নিউইয়র্কের আর্কিওলজিস্ট
মারভিন মিলার যমুনা নদীর তীর সংলগ্ন
তাজমহলের দেয়ালের নমুনা পরীক্ষা করেন।
তিনি এর কার্বন টেস্ট করে যে তথ্য পান, এই
কার্বন সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলেরও
চেয়ে ৩০০ বছর বেশি পুরনো! এছাড়া
আরেকটি ব্যাপার হল কোন এক ইউরোপীয়ান
পর্যটক ১৬৩৮ সালে আগ্রা ভ্রমণ করেন। সময়টি
শাহজাহান স্ত্রী মমতাজের মারা যাওয়ার
মাত্র ৭ বছর পর। কিন্তু তিনি তার লিখিত
ভারতবর্ষ ভ্রমণ গ্রন্থে তাজমহল নামক
প্রাসাদের কথাই উল্লেখ করেননি।
..........বিতর্ক আরও রয়েছে:
█ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █
https://papry99.blogspot.com
সম্রাট শাহজাহান ও মমতাজের প্রেম
কাহিনীতে বলা হয়েছে সম্রাট
শাহজাহান মমতাজকে
বাজারে দেখতে পান এবং প্রথম দেখাতেই
মমতাজকে পছন্দ করে ফেলেন। কিন্তু এও
শোনা যায় শাহজাহানের সাথে বিয়ে হওয়ার
আগেও মমতাজের বিয়ে হয়েছিল এবং সম্রাট
শাহজাহান মমতাজের সেই স্বামীকে হত্যা
করে তারপর মমতাজকে বিয়ে করেছিল। শুধু
তাই নয় মমতাজের আগেও সম্রাট
শাহজাহানের আরও ৩ জন স্ত্রী ছিলেন এবং
মমতাজকে বিয়ে করার পরও সম্রাট
শাহজাহান আরও তিনটি বিয়ে করেন। এমনকি
মমতাজ মারা যাওয়ার পর শাহজাহান
মমতাজের আপন ছোট বোনকে বিয়ে করেন।
তাজমহলের ডিজাইনারের নাম ছিল- ঈশা
মোহাম্মদ। তিনি তার স্ত্রীকে উপহার
দেয়ার জন্য একটি ভাস্কর্য বানিয়েছিলেন।
পরে সম্রাট শাহজাহানের পছন্দ হওয়াতে
সেই ডিজাইনের আদলে বানানো হয়
বিশ্ববিখ্যাত তাজমহল এবং সেই ব্যক্তিটির
চোখ নষ্ট করে দেওয়া হয় যাতে তিনি নতুন
করে আর এই ডিজাইন তৈরি করতে না
পারেন। শুধু তাই নয়, যে বিশ হাজার শ্রমিক
দিন রাত খেটে এই মহলটি তৈরি করেছিলেন
তাদের হাতও কেটে দিয়েছিলেন সম্রাট
শাহজাহান। ভালোবাসার এক নিষ্ঠুর ও
নৃশংসতম ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে সম্রাট
শাহজাহান-মমতাজের প্রেম কাহিনী ও
তাজমহলের পেছনে।
...তাজমহলের নির্মাণকালীন তথ্য:
█ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █
https://papry99.blogspot.com
আজ যেখানে তাজমহল দাঁড়িয়ে, সেখানটা
ছিল মহারাজা জয় সিংহের সম্পত্তি।
শাহজাহান মধ্য-আগ্রার একটি প্রকান্ড
রাজপ্রাসাদের বিনিময়ে ওই জমিটি
অধিগ্রহণ করেন। তাজমহলের নির্মান শুরু হয়
১৬৩২ সালে; মমতাজের মৃত্যুর এক বছর পর। ২০
হাজারের বেশি শ্রমিকের প্রচেষ্টায় ১৬৪৮
সালে, মমতাজের মৃত্যুর ১৭ বছর পর গম্বুজ
গুলোর নির্মান কাজ শেষ হয়; যদিও পুরো
কাজ শেষ হয় ১৬৫৩ সালে। শুধু মানুষ নয়; এ
মহান কীর্তির ভাগিদার ১০০০ হাতী, যারা
নির্মাণের জন্য মার্বেল পাথর পরিবহনে
নিয়োজিত ছিল। এই সৌধ নির্মাণে বিভিন্ন. :
ধর্মের স্থাপত্যের অনুকরণ করা হয়; যেমন
তাজের মাথার ত্রিশূলটি হিন্দুদের
শিবমন্দিরের অনুকরণে, মুসলমানদের
মসজিদের মতো করা হয় তাজমহলের চারটি
মিনার ও মাথার গম্বুজ ।
পুরো তাজমহল ১৮০ ফুট উঁচু যার প্রধান গম্বুজটি
২১৩ ফুট উঁচু এবং ৬০ ফুট চওড়া এবং এর
চারপাশে চারটি মিনার আছে যার প্রতিটির
উচ্চতা ১৬২.৫ ফুট। পুরো কমপ্লেক্সটির আকার
১৯০২X১০০২ ফুট। শুধু তাজমহলটি ১৮৬X১৮৬ ফুট
মার্বেল পাথরের উপর নির্মিত। এর প্রধান
প্রবেশদ্বার ১৫১X১১৭ ফুট চওড়া এবং ১০০ ফুট
উঁচু। : বাকি অংশ এখানে https://papry99.blogspot.com
লেখকঃ Unknown
এ বিভাগ হতে আরও কিছু পোষ্ট
- ব্লগার মন্তব্য
- ফেইসবুক মন্তব্য
Post a Comment
Subscribe to:
Post Comments (Atom)