ধন্যবাদ সঙ্গেই থাকার জন্য. :
তাজমহল নির্মানের জন্য পাঞ্জাব
থেকে আনা হয় স্বচ্ছ মার্বেল পাথর, চীন
থেকে সবুজ পাথর, তিব্বত থেকে স্বচ্ছ ও নীল
পাথর এবং শ্রীলংকা থেকে নীলমনি।
তাছাড়া ভারত, পাকিস্তান, পারস্য ছাড়াও
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২৮ রকমের
মূল্যবান পাথর দিয়ে তৈরি করা হয় এই অনন্য
স্থাপত্য।
তৎকালীন নির্মাণ খরচ অনুমান করা কঠিন ও
কিছু সমস্যার কারণে তাজমহল নির্মাণে কত
খরচ হয়েছিল তার হিসাবে কিছুটা হেরফের
দেখা যায়। তাজমহল নির্মাণে তৎকালীন
আনুমানিক ৩২ মিলিয়ন বা $১০০০০০০ ডলার
রুপি খরচ হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু
শ্রমিকের খরচ, নির্মাণে যে সময় লেগেছে
এবং ভিন্ন অর্থনৈতিক যুগের কারণে এর মূল্য
অনেক, একে অমূল্য বলা হয।
তাজমহল যে জমির ওপর দাঁড়িয়ে, সেই জমি
ছিল অত্যন্ত নীচু । প্রচুর মাটি ফেলে সেই
জমি কে যমুনা নদীর তীরের উচ্চতা থেকে
প্রায় ৫০ মিটার [১৬০ ফুট] উচু করা হয়। ঠিক
এখনকার earthquake proof বহুতলের column
নির্মাণের মতো্ই সেখানে অনেকগুলি
পাতকুয়া খোঁড়া হয় ও তারপর সেগুলি
পাথর,বালি ও মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়।
তাজমহলের এই ভিতটি ভূমিকম্প বা প্রবল
প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না ।
ওই ভরাট-করা পাতকুয়াগুলির ওপর এক বিশাল
মঞ্চ তৈরী করে তার ওপর সৌধের
র্নিমাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। এখনকার বাড়ি
তৈরী করতে হলে বাঁশের তৈরী ভারা লাগে
। তাজমহল নির্মাণের জন্যে যে ভারা তৈরী
করা হয় তাও এক আশ্চর্য নজির । প্রকান্ড এক
ইঁটের তৈরী ভারা বানানো হয়েছিল
তাজমহলের ওপরের কাজের জন্যে । সেই
ভারা এতটাই বড় ছিল যে রাজমিস্ত্রিরা
জানায় ভারা ভাঙতে তাদের কযেক বছর সময়
লেগে যাবে । তখন শাহজাহান র্নিদেশ দেন
এই ভারার ইঁট যে কেউ নিয়ে যেতে পারে
একেবারে বিনামূল্যে । রাতারাতি সেই
প্রকান্ড ভারা অদৃশ্য হয়ে যায়।রাজ্যের
হাজার হাজার গরিব কৃষক সেই ভারার ইঁট
খুলে নিয়ে যায় তাদের নিজেদের গৃহ
নির্মানের জন্যে।
এর প্রধান নকশাকার ছিলেন ওস্তাদ আহমেদ
লাহুরি আরও ছিলেন আবদুল করিম মামুর খান
এবং মাকরামাত খান যারা সে সময়ের
সবচেয়ে নিখুঁত, পারদর্শী ও উচ্চ পর্যায়ের
প্রকৌশলী এবং নকশাকার ছিলেন। এছাড়া
তাজমহলের বিখ্যাত ক্যালিওগ্রাফিগুলো
করেছিলেন তৎকালের ক্যালিওগ্রাফার
আবদুল হক, যার প্রশংসনীয় ক্যলিওগ্রাফি
দেখে মুগ্ধ হয়ে সম্রাট নিজেই তাকে
‘আমানত খান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
..তাজমহল নিয়েও বিতর্ক রয়েছে:
█ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █
https://papry99.blogspot.com
এ বিমূর্ত শিল্পকলা তাজমহলের ইতিহাসকে
চ্যালেঞ্জ করে বসেছেন প্রফেসর পিএন অক
তার “তাজমহল: দ্য ট্রু স্টরিতে”। তিনি দাবি
করেন, তাজমহল বেগম মমতাজের সম্মানে
নির্মিত কোন প্রেমের সমাধিস্থল নয়, বরং
এটি প্রাচীন হিন্দু দেবতা শিবের মন্দির। এ
মন্দিরের নাম ছিল ‘তেজ মহালয়’। এই মন্দিরে
আগ্রার রাজপুতরা পূজা-অর্চনা করত, তাই
সাধারণের কাছে এ মন্দির অতটা পরিচিত
ছিল না। আর ‘তেজ মহালয়’ থেকেই
তাজমহলের নামকরণ। এটি পরে সম্রাট
শাহজাহান তার মৃত স্ত্রীর স্মরণে
স্মৃতিশালা হিসেবে গড়ে তোলেন। ইতিহাস
অনুসন্ধান করে প্রফেসর পিএন অক যে পিলে
চমকানো কথাগুলো ব্যক্ত করেন তা হল,
সম্রাট শাহজাহান অন্যায়ভাবে জয়পুরের
মহারাজা জয় সিংয়ের কাছ থেকে শিব
মন্দিরটি অর্থাৎ তাজমহলটি দখল করে নেন।
পিএন অক যে দলিল উপস্থাপন করেন - সম্রাট
শাহজাহান নিজেই তার দিনপঞ্জি
‘বাদশাহনামা’তে উল্লেখ করে গেছেন,
রাজা জয় সিংয়ের কাছ থেকে আগ্রার এক
চমৎকার প্রাসাদোপম ভবন মমতাজ মহলের
সমাধিস্থলের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে এবং
এর জন্য সম্রাটের পক্ষ থেকে রাজা জয়
সিংকে অন্যত্র জমিও কিনে দেয়া হয়েছে।
‘তাজমহলের’ নাম নিয়েও প্রফেসর অক সংশয়
প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মুঘলামলে এমনকি
খোদ শাহজাহানের আমলেও কোন দলিলাদি
ও কোর্টের নথিপত্রে কোথাও ‘তাজমহলের’
নাম উল্লেখ নেই। আর সে সময়ে মুসলিম
শাসনামলে কোন ভবন বা প্রাসাদের নাম
‘মহল’ রাখার প্রচলন ছিল না। এছাড়া
‘তাজমহল’ নামটি এসেছে মমতাজ মহল থেকে
এ বিষয়টিও প্রফেসর অক মেনে নেননি।
তিনি এর পেছনে দুটি কারণ উল্লেখ করেন।
প্রথম কারণ, সম্রাট শাহজাহানের স্ত্রীর
প্রকৃত নাম কখনোই মমতাজ ছিল না। দ্বিতীয়
কারণ, সাইকোলজিক্যাললি কেউ কারও
নামে প্রাসাদ নির্মাণ করলে নামের প্রথম
দুই অক্ষর বাদ দিয়ে অর্থাৎ মমতাজের মম
বাদ দিয়ে তাজ নাম রাখাটা মানব স্বভাবের
মধ্যে পড়ে না।
প্রফেসর অক তাজমহলের স্থাপত্য শৈলীর
কিছু অসামঞ্জস্যতার কথা উল্লেখ করে
বলেন, তাজমহল মূলত হিন্দু শিব মন্দির ছাড়া
আর কিছুই নয়। তিনি আরও যুক্তি দেখান,
তাজমহলের কিছু কামরা শাহজাহানের আমল
হতেই তালাবন্দি যা এখনও জনসাধারণের
অজানা রয়ে আছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি
করেন ওই সব কামরার একটাতে রয়েছে
দেবতা শিবের মস্তকবিহীন মূর্তি অর্থাৎ শিব
লিঙ্গ যা হিন্দুদের শিব মন্দিরে সচরাচর
দেখতে পাওয়া যায়। বিখ্যাত তাজমহল নিয়ে
প্রফেসর অকের এ উল্টো বক্তব্য ও ইতিহাস
তিনি তার যে বইতে লিখেছিলেন তৎকালীন
ভারতের ইন্দিরা গান্ধী সরকার বইটি ব্যান্ড
করে দেয় ও সবগুলো কপি বাজার হতে উঠিয়ে
নেয় এবং ভারতে এর দ্বিতীয় কোন কপি
প্রকাশ করাও বন্ধ করে দেয়। সেখানে কারণ
দেখানো হয়, যদি এ বই প্রকাশ করা হয়
তাহলে ভারতে হিন্দু ও মুসলিমদের মাঝে
ধমর্ীয় এবং রাজনৈতিক সংঘাত বা রায়োট
বেঁধে যাওয়ার শংকা রয়েছে। পরে প্রফেসর
অকের প্রচলিত ইতিহাস বিরোধী বক্তব্য এবং
তার বই বিশ্লেষণে গবেষকরা এতটুকু মত
দিতে পেরেছেন, তাজমহলের মার্বেল পাথর,
ইসলামিক সংস্কৃতি, আলকোরআনের আয়াত
ক্যালিওগ্রাফি এবং সৌন্দর্যমণ্ডিত
গমু্বজের কারুকাজ এসব কিছুই সম্রাট
শাহজাহানের সময়ে হয়ে থাকলেও
তাজমহলের প্রাথমিক স্থাপনা শাহজাহান
কর্তৃক না হয়েও থাকতে পারে।
পরিশেষে তর্ক-বিতর্ক যতই থাকুন তবু
তাজমহল মুঘল মুসলিম স্থাপত্য কীর্তিগুলোর
মধ্যে গৌরবান্বিত অলঙ্কার, একটি অনন্য
কীর্তি। সপ্তাশ্চর্যের এক আশ্চর্য।
█ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █ █
https://papry99.blogspot.com
লেখকঃ Unknown
এ বিভাগ হতে আরও কিছু পোষ্ট
- ব্লগার মন্তব্য
- ফেইসবুক মন্তব্য
Post a Comment
Subscribe to:
Post Comments (Atom)